ব্লগ.!!! শব্দটার সাথে আমরা মোটামুটি সবাই’ই কমবেশি পরিচিত। একটা সময় ছিলো, যখন ব্লগার মানেই বুঝানো হতো খুবই খারাপ চরিত্রের মানুষ।
বিশেষ করে ব্লগার রাজীব হত্যাকান্ডের পর সবাইই মোটামুটি ব্লগ নামক শব্দটার সাথে পরিচিত হয়েছে। তাও ভালো জিনিস হিসেবে না, অবশ্যই খারাপ জিনিস হিসেবে। মানে ব্লগ জিনিসটাই একটা খারাপ জিনিস, আর যারা ব্লগার, তারা সবাইই খারাপ,,, এমন নেতিবাচক ধারনা অনেক সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিতদেরও প্রায় সবার’ই ছিলো বা এখনো আছে।
তো আপনিও যদি তেমনটাই মনে করে থাকেন যে ব্লগ মানেই খারাপ আর ব্লগার মানেই রাজীবের মতো নিকৃষ্ট মানুষ, তাহলে আপনি এই ২০২৩ সালের মতো তথ্য প্রযুক্তির বৈপ্লবিক যুগে এসেও আপনি সেই অবুঝ’ই রয়ে গেছেন।
আমাদের দেশটাই এমন। ভালো প্ল্যাটফর্মটাকে কিছু গুঁটিকয়েক খারাপ ও ফালতু পাবলিকদের জন্য পুরো প্ল্যাটফর্মের পুরো সোসাইটিটাকেই দোষারোপ করতে থাকেন। এই যেমন টিকটক।
টিকটকে নাকি সব মানুষই প্রতিবন্ধী। তাও আবার এসে বলে ফেসবুকে। কেন ভাই? ফেসবুকে কি প্রতিবন্ধী নাই?
ফেসবুক যেমন একটা প্ল্যাটফর্ম, তেমনি টিকটক’ও ইন্টারনেটের আরেকটা প্ল্যাটফর্ম, আর তেমনি ব্লগও ঠিকই একইভাবে আরেকটা প্ল্যাটফর্ম।
টিকটকে যেমন প্রতিবন্ধী আছে, তেমনি ফেসবুকেও বহু ছাগল আছে। একটু মাথা খাটানোর চেষ্টা করুন। আবার ব্লগও সবাই শখের বশেই লিখেনা, অনেকের কাছে ব্লগিং করা একটা শখ, আবার অনেকের কাছে এটা একটা প্রয়োজন।
এই আর্টিকেলে আমরা যেসব বিষয়াদি সম্পর্কে জানবোঃ
- ব্লগের সংজ্ঞা ও উদাহরণ
- ব্লগ ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের মধ্যে সাধারণ পার্থক্যঃ
- ব্লগের ডোমেইন নেম
- ব্লগ কোথায় কোথায় মূলত ব্যবহার হয়?
- ব্লগ ও ব্লগার
- বিনামূল্যে ব্লগিং
ধরুন আপনি একটা কলেজে বাংলা মিডিয়ামে পদার্থবিজ্ঞানে পড়ালেখা করতেছেন, আপনার প্রতিবেশী ঐ একই কলেজে’ই ইংলিশ মিডিয়ামে বায়োলোজি নিয়ে পড়ালেখা করতেছে। এবং অন্য জেলা থেকে বা অন্য দেশ থেকে আরেকজন এসে আপনারই কলেজে ফারসী মিডিয়ামে সোস্যালোজি নিয়ে পড়ালেখা করতেছে। এখন আপনার কি উচিত হবে ফারসী বিষয় আপনি বুঝেননা বলে তাকে নিয়ে মষ্করা করা??
ইন্টারনেট’কে একটা কলেজ কল্পনা করুন, আর বিভাগ গুলোকে একেকটা সাইট আর সাবজেক্টগুলোকে একেকটা ক্যাটাগরি ভাবুন। এবার যে যেই ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট বানাক, সেটা তার নিজের ব্যপার। ইন্টারনেট মানেই শুধু ফেসবুক আর ইউটিউব না। এখানে টিকটকের মতো হাজার হাজার প্ল্যাটফর্মও থাকবে। কিন্তু তাই বলে সেসব প্ল্যাটফর্ম নিয়ে মজা করতে হবে? কোনো সাইট’ই কারো জন্য নির্দিষ্ট করা না, (অর্গানাইজেশনের গুলা বাদে), যেকোনো সার্ফেস সাইটেই যে কেউ’ই চালাতে পারে যদি তার সেই জ্ঞান থাকে।
প্রতিবন্ধীরা টিকটকের মতো একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে তাদের ট্যালেন্ট শো করার। তো আপনি এখানে তাদেরকে নিয়ে মাতামাতি করে এটা তাদের প্ল্যাটফর্ম বলে প্রচার করে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন? আপনিও তাদের ফ্যান বলে? আপনি সেখানে গেছেন কেন? আপনি নিজেকে কি প্রতিবন্ধী বলতে পারেন না?
ফেসবুকে যেমন আপনার মতো অতিভদ্র মানুষজন থাকেন, তেমনি ফেসবুকেই অনেক গরু-ছাগলও থাকে।
আবার, টিকটকে যেমন প্রতিবন্ধীরা থাকে, তেমনি টিকটকে প্রায় সকল সেলিব্রেটিরাও থাকে, অনেক জ্ঞানীগুনীরাও তাদের ট্যালেন্ট সেখানে শো করে।
টিকটক ও ফেসবুকের সামান্য উদাহরন এখানে টানার অন্যতম কারণটা এবার বুঝতে পেরেছেন তো?
আমরা মূলত “ব্লগ ও ব্লগার” নিয়ে কথা বলতেছিলাম। টিকটক যেমন শুধু প্রতিবন্ধীরাই চালায় না, বা ফেসবুক যেমন শুধু ভদ্রলোকেরাই চালায় না, তেমনি ব্লগও শুধুমাত্র রাজীবের মতো পাবলিকেরাই লিখেনা।
ব্লগ সম্পর্কে জানতে হলে আগে আমাদেরকে ব্লগের সংজ্ঞা বা ব্লগ সম্পর্কে জানতে হবে যে এই জিনিসটা আসলে কি জিনিস।
ব্লগ কি?
ব্লগ হলো এমন একটা ওয়েবসাইট, যেখানে আপনি কোনো তথ্য জানতে পারবেন।
আপনি ইন্টারনেটে যত আর্টিকেল বা তথ্যবহুল ওয়েবসাইট দেখতে পান বা গুগল করলে আপনার সামনে আসে, সেই সকল ওয়েবসাইটই ব্লগ সাইট। আপনি এখন যেই আর্টিকেল’টা পড়তেছেন না? এটাও একটা ব্লগ।
ব্লগ এমন একটা জিনিস, যেখানে আর্টিকেল থাকবে, পোস্ট থাকবে, তথ্য থাকবে, নির্দেশনা থাকবে,,,যেখান থেকে মানুষ তাদের কাঙ্খিত তথ্য জানতে পারবে।
আর এরকম ওয়েবসাইটের সংখ্যা ইন্টারনেটে অসংখ্য ও অগণিত।
বলতে গেলে ইন্টারনেটের প্রায় ম্যাক্সিমাম ওয়েবসাইট’ই ব্লগসাইট।
আর এই ব্লগে বা ওয়েবসাইটে যারা তথ্য লিখে পাবলিশ করে তাদেরকেই ব্লগার বলে।
যেমনটা আপনি ফেসবুকিং করলে আপনাকে ফেসবুকার বলে, ইউটিউবে ভিডিও পাবলিশ করলে তাদেরকে যেমন ইউটিউবার বলে, তেমনি ব্লগ লিখলে তাকে ব্লগার বলে।
ব্লগ ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের মধ্যে সাধারণ পার্থক্যঃ
আমরা আগেই জেনেছি যে, প্রতিটা তথ্য সম্বলিত ওয়েবসাইটকেই ব্লগসাইট বলে। তাহলে আপনি কখন বুঝবেন এটা ব্লগ বা কখন বুঝবেন এটা ওয়েবসাইট?
আপনাকে আগে জানতে হবে যে, ব্লগ আর ওয়েবসাইটের মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। প্রতিটা ব্লগকেই আগে ওয়েবসাইট হতে হয়, তারপর হলো ব্লগ।
উদাহরণ স্বরুপ, আপনি দারাজে কেনাকাটা করেন না? বা আলিবাবা অথবা অ্যামাজনে? ওগুলা কি জিনিস? আপনি যদি জ্ঞানে সামান্য স্মার্ট হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চই বলবেন যে ওগুলা ইকমার্স ওয়েবসাইট? এক্সাক্টলি, ব্লগ জিনিসটাও একটা ওয়েবসাইট।
ইকমার্স সাইটে যেমন আপনি ফেসবুকিং করতে পারেন না, সেখান থেকে যেমন আপনাকে কেনাকাটা করতে হয়, তেমনি ব্লগেও আপনি কেনাকাটা করতে পারবেন না, কারণ ব্লগসাইটে আপনাকে বিভিন্ন তথ্য বা আর্টিকেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
ওয়েবসাইট গুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করলে আমরা যেসব ব্যপারগুলো দেখতে পাই, তার একটা হলো ব্লগ। ইন্টারনেটে আপনি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট দেখতে পাবেন, যেমন:
- ইকমার্স
- ভিডিও স্ট্রিমিং
- অডিও স্ট্রিমিং
- ব্রডকাস্টিং
- ব্লগ (যেটা নিয়েই এখন প্যাঁচাল পারতেছি)
- ট্রাভেল সাইট
- পারসোনাল সাইট
- নিউজ পোর্টাল
- ইত্যাদি
ব্লগের ডোমেইন নেমঃ
আপনার মনে আরেকটা প্রশ্ন আসতে পারে, সবই মানলাম, কিন্তু ব্লগ চিনবো কিভাবে যে কোনটা ব্লগ আর কোনটা ওয়েবসাইট? ব্লগের সাইটের ডোমেইন কেমন হয়? আপনার সাইটের মতোই কি হয়? যেমন blog.msishakil.com এমন? অথবা www.msishakil.com/blog এমন?
উত্তরঃ মোটেও না। আপনি যেকোনো ডোমেইনেই ব্লগসাইট বানাতে পারবেন, যদি আপনি জানেন কিভাবে ওয়েবসাইট বানাতে হয়। আপনি চাইলে আলীবাবা.কম’কে ব্লগসাইট বানাতে পারবেন(যদি আপনি সেই ওয়েবসাইটের মালিক হয়ে থাকেন), আবার amazon.com‘কেও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম বানাতে পারবেন।
অর্থাৎ, ডোমেইন এখানে মূল ফ্যাক্ট না যে আপনি কিভাবে ব্লগ বানাবেন বা ব্লগিং করবেন। এখানে আসল ফ্যাক্টটা হলো আপনি আসলে কি করবেন?
আপনি চাইলে যেকোনো ডোমেইনকেই যেকোনো সাইট বানাতে পারেন, যদি আপনার সেই টেকনোলোজি থাকে।
যেমন, আমি চাইলেই আমার এই সাইটের প্রাইমারী ডোমেইন www.msishakil.com কে সরাসরি’ই ব্লগ বানাতে পারি, অথবা পারি ইকমার্স ওয়েবসাইট বানাতে, অথবা ফেসবুকের মতো বা ইউটিউবের মতোই কোনো ওয়েবসাইট বানাতে পারি।
কিন্তু আমি সেটা না করে ঐ সাইটের আন্ডারে আরেকটা সাবডোমেইন তৈরী করেছি, যার নাম দিয়েছি “blog”, তারপর সেটা আমার প্রাইমারী ডোমেইনের আন্ডারে চলে গিয়ে হয়ে গেছে blog.msishakil.com .
আমি চাইলেই blog এর পরিবর্তে যেকোনো নামই দিতে পারতাম, কিন্তু আমি সেটা দিইনাই। কারণ, এই নাম দেখে মানুষ যাতে বুঝতে পারে যে এটা আমার ব্লগসাইট। আর ব্লগ কি জিনিস সেটা আমি আগেই বর্ণনা করেছি। অর্থাৎ আমি যে এই ওয়েবসাইটে আমার আর্টিকেল পাবলিশ করবো, মানুষ যাতে সেটা বুঝতে পারে।
ব্লগ কোথায় কোথায় মূলত ব্যবহার হয়?
ব্লগ যেহেতু আর্টিকেল আকারে তথ্য প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত হয়, তাই এটা মূলত যেকোনো কোম্পানী তাদের কোম্পানী সম্পর্কে প্রশ্নত্তোরের একটা সেকশান রাখার জন্য ব্যবহার করে, বা তাদের সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করার জন্য ব্যবহার করে। উদাহরণ হিসেবে, যেমন Microsoft তাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ব্লগ রেখেছে তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য, এমনই কয়েকটি সাইট হলো নিম্নরূপঃ
- blogs.microsoft.com
- azure.microsoft.com/blog
- microsoft.com/microsoft-365/blog/
- microsoft.com/security/blog/
- devblogs.microsoft.com/
- microsoft.com/ai/blog/
- educationblog.microsoft.com/
- blog.msishakil.com
- etc
এগুলা বিভিন্ন সার্ভিসের জন্য খোলা বিভিন্ন সেকশনের আন্ডারের ব্লগ সাইট।
এবার নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন যে, এক Microsoft ডোমেইনের আন্ডারেই কতগুলা ব্লগসাইট থাকতে পারে। এগুলো জাস্ট তাদের সার্ভিস সম্পর্কে জানার জন্য বানানো ওয়েবসাইট। এরকম ওয়েবসাইট প্রায় প্রতিটা কোম্পানিরই আছে। কোম্পানির প্রধান ওয়েবসাইটে মূলত তাদের কোম্পানি সম্পর্কে ওভারভিউ সম্বলিত তথ্য থাকে, কিন্তু বিষদ আলোচনার খুটিনাটি নিয়ে আলাদা ওয়েবসাইট বানায়।
আর যারা ব্লগার, তারা মূলত এইসবই লিখে। কেউকেউ নিজের পছন্দমতো একটা নিশ নিয়ে ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে ঐ বিষয়ের উপরে লিখে ওয়েবসাইট তৈরী করে। এবার সেটা কোনো মাস্টার ডোমেইনের আন্ডারেও হতে পারে, আবার সাব ডোমেইনের আন্ডারেও হতে পারে। অথবা মাস্টার ডোমেইনের আন্ডারেই অন্য আরেকটা সেকশনেও হতে পারে। যারযার চয়েসের উপরে ভিত্তি করে হয়।
আরেকটা তথ্য হয়তো আমি স্কিপ করে গিয়েছি, সেটা হলো ব্লগে যেমন আর্টিকেল থাকে, তেমনি আর্টিকেলের আন্ডারে মানুষজন তাদের মন্তব্যও করতে পারবে।
ব্লগ ও ব্লগার

অনেকেই গুগলের Blogger এর সাথে পরিচিত। এই বিষয়টা নিয়েও একটু বলা যাক।
যারা ব্লগিং করেন, তাদের মধ্যেরও অনেকেই আছেন যারা মনে করেন যে ব্লগিং মানেই বুঝি গুগলের Blogger সাইট দিয়ে লিখালিখি করা। আসলে কথাটা মোটেও সত্যি না। আপনি শুধু গুগলের Blogger দিয়েই ব্লগ লিখলে তাকে ব্লগ বলবে, ব্যপারটা মোটেও এমন না।
ব্লগ আপনি যেকোনো ভাবেই বানাতে পারেন। Blogger, WordPress, joomla, Drupal, Wix, Weebly, ইত্যাদি যেকোনো মাধ্যমেই আপনি ব্লগ সাইট বানাতে ও ব্লগ লিখতে পারেন। এমনকি বিভিন্ন কোডবেজ ফ্রেমওয়ার্ক যেমনঃ লারাভেল, জ্যাঙ্গো, কোডইগনিটার, স্প্রিং, ইত্যাদির মাধ্যমে নিজে কোডিং করে ওয়েবসাইট বানিয়েও সেটাকে ব্লগ হিসেবে পাবলিশ করতে পারেন।


গুগলের Blogger হলো জাস্ট একটা মাধ্যম, গুগল এটাকে পরিচিত শব্দের সাথেই মিল রেখেই ডোমেইন নিয়েছে বলেই ব্লগ মানেই একচ্ছত্র গুগলের ব্লগারকেই শুধুমাত্র বোঝানো হয় না। গুগল তাদের ব্লগার সাইট বানিয়েছে যাতে আপনি তাদের সাইট ব্যবহার করে নিজের মতো করে ওয়েবসাইট বানাতে পারেন। আর এটা মোটামুটি ফ্রী, তবে খুবই ক্রিটিক্যাল, খুবই ঝামেলাপূর্ণ। খুব কম মানুষই এটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারে। আবার এটা অনেকটা রিস্কিও। মানে গুগল চাইলেই আপনার ওয়েবসাইট ডিলেট করে দিতে পারে, যেহেতু তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি এটা। এই ব্লগার সাইটে আপনি আপনার পারসোনাল যেকোনো ডোমেইন বা সাবডোমেইন অ্যাড করে নিজের মতো করে ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইট বানাতে পারবেন।
যেমন আমি আমার এই blog.msishakil.com সাইটটা চাইলে ব্লগার দিয়ে বানাতে পারতাম, এমনকি একবার বানিয়েছিলামও, কিন্তু পরবর্তীতে এটা ওয়ার্ডপ্রেসে সুইচ করি। কারণ ব্লগারে আমি সন্তুষ্ট থাকতে পারিনাই। ব্লগারের জন্য থিম কিনতে গিয়ে মনমতো থিম পাচ্ছিনা, বা মডিফাই করতে গিয়েও অনেক হ্যাসেলের মধ্যে পরতে হয়েছে।
পরে যখন ভাবলাম নিজেই থিম বানাবো, তখন দেখা যাচ্ছে থিম বানিয়ে ফেলেছি ঠিকিই, কিন্তু সেটা ব্লগারে কনভার্ট করতে গিয়ে সাধারণ কোডিংয়ে হচ্ছেনা। ব্লগারের থিমের জন্য টানা এক সপ্তাহ কোডিং করে আমি আমার সারা জীবনের করা প্রোগ্রামিং প্যাটার্নগুলোকে আউলাতে ও ভুলতে শুরু করেছিলাম, তবুও ঠিকঠাক লুক দিতে পারছিনা, যেখানে ওয়ার্ডপ্রেসে কাজটা করা অনেক অনেক সহজ। তাই সময় বাঁচানোর সুবিধার্থে ব্লগার বাদ দিয়েছি। এরকম অনেক ঝামেলার মধ্যেই প্রায় ব্লগাররা পরেন যারা এই গুগলের ব্লগার দিয়ে ওয়েবসাইট বানান।
তবে ব্লগার দিয়েও অনেক হাই র্যাংকিংয়ের ওয়েবসাইটও অনেককে চালাচ্ছেন। যাদের খুব বেশি রিকোয়ারমেন্ট নাই, বা খুব বেশি চাহিদা নাই, শুধুমাত্র ব্লগিং করতে পারলেই যথেষ্ট, অত টেকনিক্যাল কিছু লাগবেনা বলে ভাবছেন,,,এবং একই সাথে বাজেট খুবই স্বল্প, তাদের জন্য গুগলের ব্লগার সাইট’ই বেস্ট অপশন।
ব্লগিং করতে খরচের ব্যপার-স্যাপারঃ
আগেই বলেছি ব্লগিং করতে হলে আপনার চয়েসের উপরে ডিপেন্ড করবে যে আপনি কিভাবে ব্লগিং করবেন। তবে উপরোল্লিখিত যেকোনো উপায় সমূহের মাধ্যমে আপনি ব্লগিং করতে গেলে আপনাকে বিভিন্ন খাতে টাকা খরচ করতে হবে। যেমনঃ ডোমেইন কেনা। এটা আপনাকে মাস্ট কিনতেই হবে। তারপর আসে হোস্টিং, এটাও আপনাকে কিনতেই হবে। ডোমেইন-হোস্টিং নিয়ে পরবর্তীতে কোনো পোস্টে আলোচনা করবো।
আচ্ছা, ডোমেইন হোস্টিং তো কিনলাম, এরপর? এরপর আসে ডেভেলপমেন্ট এর টার্ম। আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করতে জানেন, তাহলে আপনার খরচ এখানে পুরোটা বেঁচে যাবে। আর যদি চান নিজে ডেভেলপমেন্ট শিখে তারপর ব্লগিং করবেন, সেটাও করতে পারেন, তবে এর জন্য আপনাকে যথেষ্ট সময় ও পরিশ্রম করতে হবে।
আর যদি চান যে আপনি ডেভেলপমেন্ট করবেন না, কিন্তু একটা সাইট বানিয়ে সেখানে নিজের আর্টিকেল প্রকাশ করবেন, তাহলে একজন ওয়েব ডেভেলপার হায়ার করতে পারেন। যে আপনার জন্য একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে দিবে, এবং কিভাবে কি করতে হবে সেটাও শিখিয়ে দিবে। কম খরচের মধ্যে ডেভেলপার কোথায় পাবেন সেটা অবশ্যই যাচাই করে নিবেন। আলু-পটলের দরেও আজকাল ডেভেলপার পাওয়া যায়, যারা আপনার থেকে কাজ নিয়ে নিজের অযোগ্যতার কারণে আপনাকে একেবারে রুচিহীন বানিয়ে দিবে, যার ফলে আপনি হয়তো ব্লগিং শুরু করার আগেই ব্লগিংয়ের স্বাদ চিরতরেই হারিয়ে ফেলতে পারেন।
ফ্রেন্ডলি বা খুব বেশি কাছের কেউ না হলে আপনি ব্লগিং বলুন আর যা’ইই বলুন, কারো কাছ থেকেই হেল্প পাবেন না। আর আরেকটা বিষয় মনে রাখবেন, দুনিয়াতে কোনো কিছুই ফ্রী না। তাই ফ্রীতেও কিছু পাওয়ার আশা রাখবেন না কারো কাছেই। এটা বাঙ্গালির স্বভাব। ডেভেলপারদের সময়ের মূল্য আছে। আপনার পরিচিত ডেভেলপারকে এমনভাবে বিরক্ত করবেন না যে, সে আপনার কাজ করে দিতে বাধ্য। সে সারাদিন ফ্রী থাকলেও সে আপনার কাজ করে দিতে বাধ্য নয়, যতক্ষন না তার সাথে আপনি কোনো চুক্তিতে যাচ্ছেন।
এরপরের ধাপে আসে লেখালিখির টার্ম।
আপনি ব্লগে তো লিখবেন, তাইনা? এই লেখা আপনি কিভাবে লিখবেন? কি লিখবেন?
প্রথমেই আপনি একটা বিষয় চুজ করবেন যে আপনি মূলত কি বিষয়ের উপরে আপনার ব্লগসাইট বানাতে চাচ্ছেন। তারপর তার উপরে লেখা শুরু করে দিন। গবেষণা করুন, তারপর একটু একটু করে MS-Word বা Google Docs এ লিখে ফেলুন। সেখানেই একটা পূর্ণাঙ্গ আর্টিকেল লিখে ফেলুন। তারপর সময়ে সময়ে সেটাকে আপডেট করুন। এবং যখন মনে হবে আপনার আর কিছু লেখার নাই, এবার পাবলিশ করা যায়, তারপরেই সেটা নিয়ে আসুন আপনার ওয়েবসাইটে। সেখানে ফরমেটিং আবার নতুন করে করুন। তারপর পাবলিশ করুন।
বিনামূল্যে ব্লগসাইটঃ
যদি একেবারেই বিনামূল্যে ওয়েবসাইট করতে চান। তাহলে আপনার জন্য বেস্ট অপন হচ্ছে গুগলের ব্লগার.কম। ওখানে আপনি একটা গুগলের সাবডোমেইনের আন্ডারেই নিজের সাইট প্রকাশ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার সাইটের নাম হবে sitename.blogspot.com. অর্থাৎ আপনি আমার এই সাইটের মতোই অর্থাৎ blog.msishakil.com এর মতোই একটা সাবডোমেইন পাবেন যেটা blogspot.com এর আন্ডারে থেকে আপনার জন্য একটা সাইট বানিয়ে দিবে।
(((আমারটা আমি আমার প্রাইমারী ডোমেইন msishakil.com এর আন্ডারে নিজেই বানিয়েছি।))
পরবর্তীতে আপনি চাইলে সেখানে নিজের ডোমেইন অ্যাড করতে পারবেন। তবে এর কিছু নেগেটিভ দিক আছে। যেমন, আপনার যেইসমস্ত পোস্ট sitename.blogspot.com এর আন্ডারে গুগলে ইনডেক্স হয়েছে, সেগুলো আবার নতুন করে আপনার অ্যাড করা ডোমেইনের আন্ডারে যাবে, এবং আপনার সাইট গুগলে র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে আবার শুরু থেকে শুরু হবে। তাই আপনার যদি ইচ্ছা থাকে নিজের ডোমেইন অ্যাড করেই ব্লগারে ব্লগিং করার, তাহলে শুরুতেই আপনি একটি ডোমেইন কিনে নিন। ডোমেইনের দাম খুব বেশি না। ১০০০ – ১২০০ টাকায় আপনি ১ বছরের জন্য ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এবং ১ বছর শেষ হওয়ার আগেই সেটা রিনিউ করে পরবর্তী ১ বছরের জন্য রিনিউ করে নিবেন। এটাই একটা ওয়েবসাইটের জন্য সর্বনিম্ন খরচ।
এইসব ছাড়াও আরোও অনেক ধরনের ব্লগসাইট আছে, যেখানকার ইউজারদেরকেও ব্লগার বলা হয়। যেমনঃ Somewhereinblog, Techtunes ইত্যাদি।
পরিশিষ্টঃ আপনি যেভাবেই ব্লগ বানান না কেন, ব্লগ মানেই একটা তথ্যনির্ভর ওয়েবসাইট। নিউজ সাইটেও অনেক সময় ব্লগ লিখা হয়। নিউজ আর ব্লগ, দুইটা দুই বিষয় হলেও দুইটাই প্রায় কাছাকাছি ধরণেরই, কিন্তু তবুও ক্যাটাগরি ভেদে কিছুটা ভিন্ন অবশ্যই। আপনি যেভাবেই ব্লগিং করেননা কেন, ব্লগ মানেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট হবে, যেখান থেকে মানুষ তাদের জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারবে। এখানে কোনো ফালতু বা অপর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে লেখা উচিত না। কারণ মানুষ গুগলে সার্চ দিয়ে যেসব তথ্য জানতে পারে বা তাদের কনফিউশন দূর করতে পারে, তার সবই আসে ব্লগের মাধ্যমে। ব্লগ ছাড়া গুগল মামা অসহায়। অনেকেই দেখছি খুব বেশি না লিখে বা অন্যের লেখা চুরি করে নিজের ব্লগ সাজায়, এটা প্রথমতো কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন, দ্বিতীয়ত নিজের সৃজনশীলতাকে গলা টিপে ধরা। কারণ, চুরি করে মানুষ খুব বেশি উন্নতি করতে পারেনা।
হ্যাপি ব্লগিং, হ্যাপি ব্লগ রিডিং।
বিঃদ্রঃ কিছুকিছু লেখার মধ্যে অনেক ঝাঁঝালো বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ, আমরা বাঙ্গালি, আমাদেরকে ঠেস মেরে কথা না বললে আমরা সহজে বুঝিনা। কিছুকিছু বিষয় আমাদের ভাষাতেই আমাদেরকে বুঝাতে হয়, তাই এখানে কিছু বাক্য ইচ্ছা করেই উল্টাপাল্টা লিখেছি। বাঙ্গালির মনোভাব অত্যান্ত টক্সিক, সে টক্সিক আকারেই বুঝতে চায়। তা নাহলে মানুষের যারযার চয়েস নিয়ে ট্রল নামক কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করতো না।
উৎসর্গ: কুন্তল হোসেন ভাই।
বিষয়বস্তু উৎসর্গ : সকল সুশীল ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলা’গণ।