* ইন্টারনেট কি?
** ইন্টারনেট চালানোতে স্যাটেলাইটের গুরুত্ব কতটুকু?
*** ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে, ইন্টারনেটের কি কোনো হেড অফিস আছে??
আজকের বিষয়ে আমরা সেসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো।
আমরা সবাইই তো ইন্টারনেট চালাই। কেউ ফোনে, কেউ বা কম্পিউটারে, আবার কেউবা ট্যাবে। আমাদের এই যুগে ইন্টারনেট এক বিরাট জায়গা দখল করে আছে। অথচ বছর দশেক আগেও কিছু অতি আধুনিক ব্যক্তিরাও ইন্টারনেট’কে খারাপ চোখে দেখতো।
সহজ কথায় বলতে গেলে ইন্টারনেটকে পর্ণ দেখার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই প্রচার করতো সবাই। অথচ কপাল দোষে তারাও আজ বিভিন্নভাবে ইন্টারনেটের সাথে সরাসরি সংযুক্ত রয়েছে, তারাও বিভিন্ন ডিভাইসে যেমন: মোবাইল/কম্পিউটারে/ট্যাবে/স্মার্টওয়াচে/স্মার্টটিভিতে ইত্যাদিতে ইন্টারনেট চালাচ্ছে।
যে যেভাবেই ইন্টারনেট চালাইনা কেন, আমাদের একটা বিরাট অংশেরই ধারণা যে, ইন্টারনেট চালাতে হলে স্যাটেলাইট প্রয়োজন, বা ইন্টারনেট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে চলে। ((যেমনটা আগে একে উনিশ-বিশ দেখার মাধ্যম হিসেবে জেনে আসছে, তেমন আরকি)), ব্যপারটা কি তাইই??
আসুন বিশ্লেষণ করা যাক।
আজকের আলোচ্য বিষয় সমূহঃ
- ইন্টারনেট কি?
- ইন্টারনেটের কার্যপদ্ধতি
- স্যাটেলাইটের সাথে ইন্টারনেটের সম্পর্ক
- স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে গেলে ইন্টারনেটের উপরে কিরকম প্রভাব পরবে?
- ইন্টারনেট কি স্টোর করে রাখা যায়?
- আমাদের কেনা ডাটাপ্যাক বা এমবি থেকে কি ওয়েবসাইট মালিকেরা কত টাকা পায়?
ইন্টারনেট কি?
ইন্টারনেট সম্পর্কে বলতে গেলে অনেকভাবেই একে সংজ্ঞায়িত করা যায়। কিন্তু ইন্টারনেট (Internet) কথাটা হচ্ছে Inter Network এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ, শাব্দিক অর্থ দিয়ে বিবেচনা করলে ইন্টারনেট শব্দটা নেটওয়ার্কের মধ্যে থেকে কার্য সম্পাদন পদ্ধতিকে বোঝায়।
সহজ কথায়, দুই বা ততোধিক ডিভাইস বা বস্তু পরষ্পর’কে একত্রে যুক্ত করে নিজেদের মধ্যে কাজের আদান-প্রদানকেই মূলত ইন্টারনেট বলে।
আর কম্পিউটারের ক্ষেত্রে “দু’ই বা ততোধিক কম্পিউটারকে একত্রে যুক্ত করে নিজেদের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান করা’কেই ইন্টারনেট বলে”।
ইন্টারনেট বলতে আমরা শুধুমাত্র কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক বা মোবাইলে ডাটা নিয়ে ফেসবুকিং করাকেই বুঝি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেট যেকোনো কিছুতেই হতে পারে। মাটির নীচের গাছের শিকড়েরাও একে অন্যের সাথে কিন্তু নিজেদের সম্পর্ক বানায়।
আবার ধরুন, কোনো একটা কূখ্যাত গ্যাং যখন কোনো অপরাধ করে, তখন নিজেদের কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে কাজ করতে হয়। এই যোগাযোগ’টা হলো নেটওয়ার্ক, আর এই নেটওয়ার্কের মধ্যে যারা আছে তাদেরকে মিলেই ইন্টারনেট।
এখন আমরা যদি নেটওয়ার্কের সাথে এর বিশ্লেষন করি, তখন হয়তো কিছুটা বুঝতে পারবো।
ইন্টারনেটের কার্যপদ্ধতিঃ
ইন্টারনেট সম্পর্কে তো আমরা মোটামুটি ধারণা পেলাম। এবার আসি এর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে।
আমরা আমাদের স্মার্টফোনে এক ফোন থেকে আরেক ফোনে ছবি বা ভিডিও পাঠাই না? এবার হোক সেটা শেয়ারইট বা ম্যাসেঞ্জার বা হোয়াটস্আ্যাপ বা টেলিগ্রাম, অথবা অন্যকিছুতে। এই শেয়ার করার নাম’ই ইন্টারনেট।
আমরা এখানে শেয়ারইট নামক অ্যাপ’টাকে দিয়েই আজকের টপিক’টাকে বুঝতে চেষ্টা করবো।
শেয়ারইট’এ আপনি কোনো ডাটা অন্য কারো ফোনে পাঠালে সেটা সরাসরি আপনার ফোন থেকে তার ফোনে যাবে, আর উক্ত অ্যাপগুলোতে পাঠালে সেগুলির জন্য নেট কানেকশনের প্রয়োজন হবে, পার্থক্য জাস্ট এইটুকুই। যখন আপনি আপনার ফোন থেকে শেয়ারইটের মাধ্যমে কারো ফোনে কিছু পাঠান, তখন সেটাকে বলা হবে “আপলোড”, আর যে আপনার পাঠানো ডাটা রিসিভ করবে, তার হবে ”ডাউনলোড”।
আর, একটা বিষয় খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যে, শেয়ারইটেও কিন্তু নেটওয়ার্ক লাগতেছেই। আপনি যখন শেয়ারইটে কিছু পাঠাবেন, তখন সেটা কিন্তু আপনার ওয়াইফাই সিগনাল ইউজ করতেছে।
এখন আসি তাহলে ইন্টারনেট কিভাবে এর সাথে সম্পৃক্ততা রাখে তার বিষয়ে।
আপনি যখন শেয়ারইটের মাধ্যমে আপনার পাশে থাকা আরেকটি ফোনে ডাটা ট্রান্সফার করছেন, তখন সে ওয়াইফাই সিগনাল ব্যবহার করে ওয়াইফাই রেঞ্জ ব্যবহার করে বাতাসের তরঙ্গ ব্যবহার করে তারবিহীনভাবেই অন্য আরেকটি নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হতে পারছে, আর এখানে ওয়াফাই টেকনোলোজি আপনাকে তারবিহিন সার্ভিস প্রোভাইড করতেছে। ((এই বিষয়ে আমরা পরবর্তী কোনো আর্টিকেলে জানবো, আজকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানছিনা।))
কিন্তু আপনি যখন দূরের কারো কাছে কিছু পাঠাবেন, তখন কি হবে? ধরুন আপনার পাশের বাড়িতে আপনার ডাটা পাঠাবেন, তখন কি করবেন? তার ডিভাইস তো আপনার রেঞ্জের মধ্যে নাও তো থাকতে পারে।
দূরের কোনো ডিভাইসে যখন আপনি কোনো ডাটা পাঠাতে চাইবেন, তখন সে নিশ্চই আপনার ওয়াইফাই রেঞ্জের মধ্যে থাকবেনা, তাইনা?
ঠিক এজন্যই আপনার দরকার এমন একটা মাধ্যম, যার মাধ্যমে আপনার ডাটা বা ফাইলগুলোকে সে দেখতে পারে বা ডাউনলোড করতে পারে। এর জন্য দরকার বাসার ব্যবহৃত বিদ্যুতের মতো তারের বা ক্যাবলের। বিদ্যুত যেমন এক জায়গায় উৎপাদিত হয়ে তারের বা খাম্বার মাধ্যমে আপনার বাসায় এসে পৌছেছে, তেমনি আপনার ডাটার জন্যও তেমনভাবেই এমন ক্যাবলের প্রয়োজন, যা আপনাদের ডাটাকে এক মোবাইল/কম্পিউটার বা ডিভাইস থেকে অন্য মোবাইল/কম্পিউটার বা ডিভাইসে পৌছাবে। আর এই কাজটিই করে আমাদের অতি পরিচিত “ইন্টারনেট” নামক বস্তুটি। আর ইন্টারনেট জিনিসটা কি, তা আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি।
এবার আসি ইন্টারনেট এই কাজটি কিভাবে করে তার বিষয়ে।
ধরুন আপনি কাউকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কাউকে কিছু ছবি বা ভিডিও পাঠাবেন, অথবা কোনো টেক্সট বা বার্তা পাঠাবেন (whatever)। এখন আপনি কি করলেন, ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে আপনার ছবি বা ভিডিওটাকে বা বার্তাটাকে টাইপ করে বা ফাইল ইনক্লুড করে আপনার অন্য কোনো বন্ধুর নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিলেন, সেও পেয়ে গেল। আপনি ভাবলেন আপনার কাজ শেষ। কিন্তু না। আপনার কাজ শেষ হলেও, এই কাজটি এতো সহজে শেষ হয়নি। যদি এর পেছনের কারণগুলো জানতে আগ্রহী হোন তাহলে আসুন জানি কিভাবে এই কাজটি করা হয়।
যখন আপনি কিছু পাঠালেন, তখন সেই ডাটা’টি সর্বপ্রথম আপনার ফোন থেকে সরাসরি চলে যাবে হোয়াটসঅ্যাপের সার্ভারে। ধরুন হোয়াটসঅ্যাপের সার্ভারটি আমেরিকায় আছে। আর তাই আপনার এখনকার পাঠানো ডাটা’টি সরাসরি আমেরিকায় চলে যাবে, তারপর তাদের সার্ভারের কম্পিউটার’টি আপনার রিকুয়েস্টটি গ্রহন করবে, তারপর প্রসেস করা শুরু করবে, সে দেখবে আপনি মূলত কাকে ডাটাটি পাঠিয়েছেন, তখন সেই সার্ভারটি তাতে সেট করে দেওয়া প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনার ডাটা‘টি পাঠিয়ে দিবে সেই নেটওয়ার্কে, যেই নেটওয়ার্কে পাঠানোর জন্য আপনি রিকুয়েস্টটি করেছেন। কারণ, ইতিমধ্যে আপনার সেই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী বন্ধুটিও উক্ত সার্ভারের সাথে কানেক্টেড হয়ে গিয়েছেন তাদের অ্যাপ ব্যবহার করে লগিন করার মাধ্যমে। এটাই ইন্টারনেটের নিয়ম।
একজন গ্রহীতা ও একজন প্রেরক থাকে এতে। বলতে পারেন চিঠিপত্রের মাধ্যমেই। একে চিঠির সাথেও চাইলে আপনি রিলেট করাতে পারেন।
নোটঃ পাশাপাশি দুইটি মোবাইলে বা ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এক মোবাইল থেকে অন্য মোবাইলে কোনো ডাটা পাঠালে সেটা তার ডাটা সেন্টার বা সার্ভার থেকে ঘুরে এসে তবেই পাশের মোবাইলে ঢুকবে
আরো অন্তত ডজনখানেক উদাহরণ দেওয়া যাবে এই মুহুর্তে।
এবার ফিরে যাওয়া যাক আমাদের আগের উদাহরণে। আমরা ইতিমধ্যে শেয়ারইটের মাধ্যমে অফলাইন ইন্টারনেট ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত হয়েছি।। এবার আমরা জানবো কোনটার মধ্যে পার্থক্য কিরকম বা কোনটা কিভাবে সম্পৃক্তরা রাখে।
এতক্ষণ তো শুধু উদাহরণ’ই দেখলাম, আমাদের আসল টপিক কি এটা ছিলো? আমাদের টপিক ছিলো স্যাটেলাইট কিভাবে ইন্টারনেটকে নিয়ন্ত্রন করে তার বিষয়ে।
এতক্ষণ আমরা যা আলোচনা করেছি, তাতে কোথাও কি আপনার স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হয়েছে? শেয়ারইট ব্যবহার করেছেন না? আপনার ডাটা কি স্যাটেলাইট থেকে আসছে? না। আসছে পাশের মোবাইল থেকে, আর পাঠানোর কাজটি করেছে শেয়ারইট, কাজটি করেছে ওয়াইফাই। এখানে স্যাটেলাইটের বিন্দুমাত্রও কোনো কাজ নাই।
আবার দেখুন, হোয়াটসআ্যাপে যখন ডাটা পাঠিয়েছেন, তখনকার কাজটিও কিন্তু স্যাটেলাইট করেনাই। করেছে আপনার মোবাইলের ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ডের সংযোগের মাধ্যমে কাজ করা আপনার ঘরে থাকা ওয়াইফাই রাউটার’টি।
স্যাটেলাইট আর ইন্টারনেট, দুইটা ভিন্ন জিনিস। ((যদিও স্যাটেলাইট’ও one kind of connectivity, but, সেটার কাজ ভিন্ন।))) স্যাটেলাইটের সাথে আমাদের পরিচিত ইন্টারনেটের কোনো’ই সম্পর্ক নাই। সুতরাং, যদি দুনিয়ার সমস্ত স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়েও যায়, তবুও আমাদের ইন্টারনেটের কিছুই হবেনা। কারণ, ইন্টারনেট চলে তারের মাধ্যমে। আর এক দেশ থেকে আরেক দেশের ডাটার একসেস নেওয়া হয় সাগরের তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। ((যদিও সম্প্রতি ইলনমাস্কের স্টারলিংক সিস্টেম স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কিছুকিছু জায়গায় ইন্টারনেট প্রোভাইড করছে, সেইটা আলাদা হিসাব।))
HTTP protocol:
পৃথিবীর সমস্ত নেটওয়ার্ক HTTP প্রোটোকলের সাথে নিজেদেরকে কানেক্টেড রাখে, যাতে তাকে বাইরে থেকে একসেস করা যায়। যখন সমস্ত নেটওয়ার্ক এই HTTP সার্ভারের সাথে সংযুক্ত থাকে তখন দুনিয়ার যে’ই এই সার্ভারের সাথে থাকে সে’ই ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয়ে যায়। এটা সারা পৃথিবীর যেকোনো নেটওয়ার্কের জন্যই প্রযোজ্য। আপনার ফোনটি দিয়ে ঠিক এজন্যই আপনি কারো সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে পারছেন, বা ম্যাসেজিং করতে পারছেন।
আমার এই আর্টিকেলটিও আমার কোনো এক সার্ভারেই সংরক্ষিত আছে, যেখান থেকে আপনার ক্লিক করা লিংকের মাধ্যমে সার্ভার আপনাকে এই আর্টিকেলটি বের করে দিয়েছে, অন্য কাউকে তো দেয়নি, কারন সে সার্ভারকে এই রিকুয়েস্টটি পাঠায়নি।
আপনি যদি HTTP সার্ভারের সাথে সংযুক্ত না থাকতেন, তাহলে কিছুতেই এই পোস্টটি পড়তে পারতেন না।
যদি আপনি আপনার ফোনের নেট কানেকশন অফ করে এই পোস্টটির জন্য বরাদ্দকৃত লিংকে ক্লিক করেন, তাহলে সেই লিংক আপনাকে কিছুই দেখাবেনা, কারণ আপনার ফোনের সাথে আমার রাখা পোস্টের সার্ভারটির কোনো সংযোগ নাই।
একই ভাবে আপনি ফেসবুকে যখন কিছু পোস্ট করেন বা কারো পোস্ট পড়েন, বা কারো পোস্ট কমেন্ট করেন বা রিয়েক্ট দেন, যা’ই’ই করেননা কেন, আপনি মূলত তাদের সার্ভারেই কাজ করেন। আপনার এই সকলকিছু নিয়ন্ত্রন করছে তাদের নিজেদের নিজেদের সার্ভার, যেখানে আপনি কিছু করছেন। এই সবকিছুই একটা সংযোগের সাথেই কানেক্ট করা।
আর এই সংযোগের কাজটিই করে থাকে আমাদের ISP তথা Internet Service Provider ’রা।
ISP যেকোনো কিছুই হতে পারে, মোবাইল ডাটা বা ব্রডব্যান্ড কানেকশন(যাকে আমরা ওয়াইফাই হিসেবে চিনি মূলত), বা হতে পারে কোনো ওয়াইম্যাক্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। ঘুরেফিরে সবাইই একই বিষয় নিয়েই কাজ করে, তা হলো সবাইকে একই নেওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করা। তাহলে এর স্পীড কম/বেশি হয় কেন? এই বিষয়ে আমরা পরবর্তীতে কোনো আর্টিকেলে জানার চেষ্টা করবো। আজকে সে বিষয়ে আর বলছিনা।
তো, এই কাজগুলো যদি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে করা হতো, তাহলে আপনি কি ফোনে ইন্টারনেট চালাতে পারতেন?
আপনি ফোনে ডিস লাইনের টিভি চ্যানেলগুলো দেখতে সরাসরি পারেন? পারেন না। ফোনে টিভি চ্যানেল দেখতে হলে আপনাকে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে হয়, যা মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমেই চ্যানেল কোম্পানীরা আপনাকে সার্ভিস দেয়। সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আপনি ফোনে ডিসলাইন দেখতে পারেন না।
ইন্টারনেট কি স্টোর করে রাখা যায়?
একটি মহা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বা আকাঙ্খা যা আমাদের মনের মধ্যে সবসময়ই উঁকি দেয়, তা হলো, “মোবাইলে যদি ডাটাপ্যাক(এমবি বলে অনেকেই) বা ওয়াইফাই যদি যদি সংরক্ষণ করে রাখা যেত, তাহলে কত’ই না ভালো হতো, পরবর্তীতে আমরা ব্যবহার করতে পারতাম”।
কি মনেহয়? পারবেন?? এতোকিছু পড়ার পরেও কি আপনার মনে হচ্ছে যে আপনার মোবাইলে দুনিয়ার সকল সার্ভার সেভ করে রাখতে পারবেন? পারবেন না।
আপনার ডাটাগুলো আসে সার্ভার থেকে। এক ফেসবুকের সার্ভারগুলোর একেকটার সাইজই হচ্ছে আপনার বাড়ির মতো কয়েকটা বাড়ির সমান। বিশ্বাস না হলে গুগল করেন। আর গুগলের সার্ভারের কথা নাহয় নাই’বা বললাম। তারপর আসে বাকীগুলোর কথা। এতো বিশাল বিশাল সার্ভার কিভাবে আপনি আপনার ফোনে সেভ করতে পারবেন? যেখানে সবগুলো সাইটই চালাচ্ছে তারা নিজেরা। এগুলি আপনার পক্ষে টোটালি অসম্ভব। কোনোভাবেই পারবেন না আপনি।
ISP তথা আপনাকে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান আপনাকে শুধুমাত্র কানেক্টিভিটি সরবরাহ করে মাত্র। আপনি যেমন চলমান বিদ্যুত পাওয়ার জন্য কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট আপনার বাড়িতে সেট করতে পারবেন না, আপনাকে তারের মাধ্যমে তাদের সার্ভিস নিতে হবে,,,।
আপনি চাইলেই সীম কোম্পানির কোনো প্যাকেজের ডাটা কোথাও সংরক্ষন করে রাখতে পারবেন না, বা ওয়াইফাই চাইলেই আপনি নিজের খেয়াল খুশিমতো ধরে রাখতে পারবেন না।
তাহলে এবার প্রশ্ন আসতে পারে যে, আপনি যখন নেট প্যাকেজ নেন, বা ওয়াইফাই বিল দেন, এই বিলগুলো কারা নেয় বা কিভাবে আসে? বা আপনার প্রতিটা খরচকৃত এমবিগুলি আসলে যায় কই? ওয়েবসাইটগুলি কি আপনার এমবির ভাগ পায়?
এর একটাই উত্তর, আপনার খরচকৃত ডাটাপ্যাকের সাথে ওয়েবসাইটের মালিকদের কোনো সম্পর্ক নাই। আপনি যে মেগাবাইট খরচ করে আমার এই আর্টিকেল’টি পড়তেছেন, তাতে আমার বিন্দু পরিমাণে লাভ নাই আপনার এমবির থেকে।
আপনার ডাটাপ্যাকটি খরচ হয় মূলত ওয়েবসাইটের থাকা কনটেন্টগুলো লোড হওয়ার জন্য। আর একে সার্ভারের ভাষায় ব্যান্ডউইথ বলা হয়(আপাতত এটাই মনে করুন)।।। আপনি কোনো লিংকে ক্লিক করে যেই আর্টিকেল বা পেজ পান, সেই পেজের সাইজটুকু আপনার কেনা ডাটা থেকে খরচ হয়। শুধু আপনার ওখান থেকেই না, আমার জন্য বরাদ্ধ সার্ভার থেকেও আমার কেনা আপনার সম পরিমাণ ব্যন্ডউইথ’ও খরচ হচ্ছে আপনার পড়ার পেজটির জন্য।
আর এই ব্যন্ডউইথ মূলত আপনাকে যখন সীম কোম্পানীরা প্রোভাইড করে, তখন আপনাকে মেগাবাইট বা গিগাবাইট হিসেবে প্যাকেজ দেয় মূলত মূল্য নির্ধারণের জন্য। যেমন ১ জিবি ৩০ টাকা, ২ জিবি ৫০ টাকা, ইত্যাদি। আর আমাকে প্রোভাইড করছে আমার সার্ভার কোম্পানী।
আবার, যখন ব্রডব্যন্ড থেকে আমরা কানেকশন নেই, তখন তারা আমাদেরকে দেয় স্পীড হিসেবে, যেমন ১০/২০মেগাবিট-পার-সেকেন্ড বা 10/20 Mbps etc.।
এই ডাটাপ্যাক বা মেগাবাইট যা’ই’ই বলুন, আপনার নেট প্যাকেজের ডাটা গুলো দিয়ে কোনো ইনকাম’ই সার্ভারের মালিকেরা বা ওয়েবসাইটের মালিকেরা করতে পারে না। আপনি ফেসবুকে/ইউটিউবে সারাদিন পড়ে থেকে হাজার হাজার জিবির নেট প্যাকেজ খরচ করে ফেললেও ফেসবুক বা ইউটিউব আপনার কাছ থেকে দু’পয়সাও পাবেনা। তাদের আপনার কাছ থেকে ইনকাম বের করার জন্য অন্য উপায় বের করে নিতে হবে।
আমাদের এতোক্ষণের সুদীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আমরা শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারলাম যে, ইন্টারনেট চালাতে হলে স্যাটেলাইটের প্রয়োজন নাই, বা স্যাটেলাইট থেকে ইন্টারনেট কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেনা, বা স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলেও ইন্টারনেটের কিছুই হবেনা। যদি উল্ল্যেখিত ইন্টারনেট কানেক্টিভিটিগুলো কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, তাহলে ইন্টারনেট তার আপন গতিতেই চলবে।।
এবং আরোও জানতে পারলাম যে, আমাদের কেনা ডাটাপ্যাক কিভাবে খরচ হয়।
.
আমাদের আজকের আলোচনা এই পর্যন্ত’ই। এতোক্ষন ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।